হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটিঃ গত তিন মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রতিবেদন প্রদান
*এইচআরএসএস ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন: মানবাধিকার পরিস্থিতি জানুয়ারি-মার্চ, ২০২৬*
*গত তিন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৩৬, আহত ৪০৭৮*
• নির্যাতনের শিকার ৬৭০ নারী ও কন্যা শিশু
• মব সহিংসতায় নিহত ৪৯, আহত ৮০
• নির্যাতন ও হয়রানির শিকার ১৮৩ সাংবাদিক
চলতি বছরের বিগত তিন মাসে (জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত) সারাদেশে রাজনেতিক ও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় দলীয় কোন্দল ও অন্তর্কোন্দলে ৩৬ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৪০৭৮ জনের অধিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি–এইচআরএসএস’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের ১৬ টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এর সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ত্রৈমাসিক (জানুয়ারি-মার্চ) মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ৬১০ টি সহিংসতার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩৬ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৪০৭৮ জনের অধিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।
নিহত ৩৬ জনের মধ্যে বিএনপির ২৮ (৭৮%) জন, জামায়াতের ০৪ (১১%) জন, আওয়ামীলীগের ১ জন ও অন্যান্য ০৩ জন। ৬১০ টি সহিংসতার ঘটনার ৫৭৩ টিই (৯৪%) ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ও বিএনপির সাথে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে।
এদিকে, গত তিন মাসে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ১৯৪ টি ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫৮৫ জন ও নিহত ২৪ জন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে ২৬০ টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৬৫৪ জন ও নিহত হয়েছেন ৭ জন। অন্যদিকে ৩৬টি বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন ২১৯ জন এবং নিহত হয়েছেন ০৩ জন। এছাড়া ২৩ টি বিএনপি-এনসিপি মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ২০৪ জন, আওয়ামীলীগ-এনসিপির মধ্যে ৩টি সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ৫১ জন, ৬০ টি বিএনপি-অন্যান্য দলের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১৬৯ জন। এছাড়া, বিভিন্ন দলের মধ্যে ৩৪ টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৯৬ জন এবং নিহত হয়েছেন ০২ জন।
এর পাশাপাশি দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অন্তত ৩৪ টি ঘটনা ঘটেছে। এসকল হামলায় কমপক্ষে ২৯ জন আহত এবং বিএনপির ১২ জন, আওয়ামীলীগের ৪ জন, জামায়াতের ৩ জন ও অন্যান্য দলের ৩ জনসহ মোট ২২ জন নিহত হয়েছেন।
‘আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা, বিভিন্ন দলের সমাবেশ কেন্দ্রিক সহিংসতা, প্রার্থীর সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, বাড়ি-ঘর, যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও চাঁদাবাজি কেন্দ্রিক অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে’ বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
প্রতিবেদনে ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্রীক সহিংসতার তথ্য উল্লেখ আরও বলা হয়, গত তিন মাসে নির্বাচনকেন্দ্রিক ৩৯৫ টি সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২ জন এবং আহত হয়েছেন ২,৫৭৩ জন। এছাড়া নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ৬০০ টিরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
নিহত ১২ জনের মধ্যে বিএনপির ৮ জন, আওয়ামী লীগের ১ জন, জামায়াতের ২ জন এবং রাজনৈতিক পরিচয় অজানা ১ জনের।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ১১৯টি ঘটনায় অন্তত ৯০৫ জন আহত এবং ৮ জন নিহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ২৩১টি ঘটনায় অন্তত ১,৪২৪ জন আহত এবং ৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ৩টি ঘটনায় ৩ জন আহত ও ১ জন নিহত হয়েছেন। বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে ১৬টি ঘটনায় ১৪১ জন আহত হয়েছেন এবং বিএনপি-অন্যান্য দলের মধ্যে ১৭টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬৩ জন। অন্যান্য দলের মধ্যে সংঘটিত ১০টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৮ জন।
এছাড়া, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ৩ মাসে অন্তত ১২টি ঘটনায় কমপক্ষে ১৮ জন নারী হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং ৬ জন নারী আহত হয়েছেন। হেনস্তার শিকারদের মধ্যে ১৭ জন জামায়াত সমর্থক এবং ১ জন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমর্থক নারী রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ১২টি ঘটনার মধ্যে ১১টিতে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের এবং ১ টিতে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
রাজনৈতিক মামলা ও আটকের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এইসময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারায় কমপক্ষে ৭৬ টি মামলা হয়েছে। এ সকল মামলায় ১৮৫০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২১০৭৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।
এ সময়ে রাজনৈতিক মামলায় কমপক্ষে ৮৫৮ আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যেখানে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী অন্তত ৪৩৬ জন, বিএনপির নেতাকর্মী ৩১৪ জন এবং জামায়াতের ৭৬ জন, এনসিপির ১৭ জন।
এছাড়া এই সময়ে সারাদেশে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে ৬ সহস্রাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন মাসে ১৭টি সভা ও সমাবেশ আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বাধা প্রদান করে, এতে ২০৪ জন ব্যক্তি আহত হন, যাদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ পথচারীও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এই সময়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর বিভিন্ন ধারার অধীনে পৃথক ৭টি মামলায় ৩৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৪ জনকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ায় ২ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যাক্তির সমালোচনায় নিহত ১ জন, আহত ১ জন, আটক ১ জন ও ৪টি মামলা হয়েছে। এছাড়া ৫ জনকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও কুরআন অবমাননার অভিযোগে আটক করা হয়েছে, এসব ঘটনায় ২টি মামলা দায়ের ও ১ জন আহত হয়েছে।
সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার তথ্য উল্লেখ করা বলা হয়েছে, এই সময়ে ৮২ টি হামলার ঘটনায় ১৮৩ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ সকল ঘটনায় আহত হয়েছেন ১২২ জন, লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ২০ জন, হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ২১ জন সাংবাদিক। ২ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর অধীনে ৮ জন সাংবাদিককে আসামী করে পৃথক দুইটি মামলা হয়েছে।
মব সহিংসতা ও গণপিটুনীর ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন মাসে গণপিটুনী ও মব সহিংসতায় সারাদেশ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাক-বিতন্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননাসহ নানা অভিযোগে ৮৮ টি ঘটনায় ৪৯ জন নিহত ও ৮০ জন আহত হয়েছেন।
সংখ্যালঘু নির্যাতন ও মন্দিরে হামলার ঘটনার উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ২৭ টি হামলার ঘটনায় ৩১ জন আহত হয়েছেন, এবং ৪ টি মন্দির, ২ টি প্রতিমা ও ১৯ টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে । এছাড়াও জমি দখলের ৩ টি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির ১০টি ঘটনা ঘটেছে।
সীমান্তে হতাহত ও আটকের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে এইচআরএসএসের প্রতিবেদনা বলা হয়, গত তিন মাসে মাসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ১৩ টি হামলার ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হামলায় ১ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া ১১ জন আহত হয়েছে, এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ ৪ জন । এছাড়া ১৫ জনকে বিভিন্ন সীমান্ত থেকে আটক করা হয়েছে।
অপরদিকে, মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে ১১টি সহিংসতার ঘটনায় ১ জন নিহত, ৫ জন আহত, গুলিবিদ্ধ ৪ জন এবং ৩২ জনকে আটক করা হয়েছে।
বিচার বহির্ভূত হত্যার (হেফাজতে/নির্যাতনে/গুলি/বন্দুকযুদ্ধে মৃত্যু) বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলিবর্ষণ এবং কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ’র ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হেফাজতে ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ৫ জন, গুলিবিদ্ধ হয়ে ১ জন এবং বন্দুকযুদ্ধে ১ জন নিহত হয়েছেন।
কারা হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সারাদেশে কারাগারে কমপক্ষে ৩৯ জন আসামী মারা গিয়েছেন। ৩৯ জনের মধ্যে ১৬ জন কয়েদী ও ২৩ জন হাজতি। এর মধ্যে ১২ জন আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের এবং ২৭ জন সাধারণ কয়েদী।
শ্রমিক নির্যাতনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন মাসে ১৩৯ টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ৩০ জন নিহত ও ৫৭৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে ও দুর্ঘটনায় ৭২ জন শ্রমিক তাদের কর্মক্ষেত্রে মারা গেছেন। এছাড়া ২ জন গৃহপরিচালিকা নিহত ও ১ জন আহত হয়েছে।
গত তিন মাসে ৬৭০ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন মাসে ৬৭০ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৪৭ জন, যাদের মধ্যে ৭৬ জন (৫২%) ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরী। এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় যে, ৩৯ জন (২৭%) নারী ও কন্যা শিশু গণধর্ষনের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে ৯ জনকে। ধর্ষিত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ১ জন।
১৮০ জন নারী ও কন্যা শিশু যৌন নিপীড়ণের শিকার হয়েছেন তন্মধ্যে শিশু ৪২ (২৩%) জন। এছাড়া, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় নিহত ৪, আহত হয়েছেন ৮ জন নারী। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ১৩৬ জন, আহত হয়েছেন ৯৬ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ৩০ জন নারী। এছাড়া এসিড সহিংসতায় আহত হয়েছেন এক নারী।
অন্যদিকে, এটি উদ্বেগজনক যে, ৩২৮ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন যাদের মধ্যে ১৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৯০ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক, মানবাধিকার সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃঢ় হয় এবং মানুষের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, কারাগার ও হেফাজতে মৃত্যু, রাজনৈতিক উত্তেজনা, এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ-এসব বিষয় সমাধান করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
এসময় সরকারের প্রতি মানবাধিকার রক্ষায় আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সকল নাগরিক, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতি এইচআরএসএসের পক্ষ থেকে অধিক সোচ্চার ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান তিনি।





