বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের শোক সভায় প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব ঃ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে, জাতির বিবেক হিসেবে এবং মাটি ও মানুষের অভিভাবক হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া

মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এঁর মৃত্যুতে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে অদ্য ০১ জানুয়ারি ২০২৬ (১৭ পৌষ ১৪৩২) বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব এসোসিয়েশনের প্রধান কার্যালয়ে (বিয়াম ফাউন্ডেশন, ৬৩ নিউ ইস্কাটন, ঢাকা) বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের উদ্যোগে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
বিশেষ দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব জনাব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব মোঃ এহছানুল হক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব নাসিমুল গণি এবং পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. মোঃ মোখলেস উর রহমান। উক্ত দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন এসোসিয়েশনের সভাপতি জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম, সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। আরও উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকসুদ জাহেদী , শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ডক্টর সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মোহাম্মদ মাসুদ রানা, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের মহাসচিব ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী সহ বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ।
বিশেষ এ দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজউদ্দিন মিয়া বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র একটি দলের নেত্রী ছিলেন না তিনি আপামর জনগণের শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। তিনি জাতীয় ঐক্যকে প্রতিক ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজেই বলতেন দেশের মাটি হচ্ছে আমার শেষ ঠিকানা। সকল অত্যাচারের মধ্যেও তিনি এই দেশের মাটিকেই আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন। তিনি জাতীয় চেতনাকে ধারণ করেছেন এ বিষয়ে তিনি কখনো আপোষ করেন নাই। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করে গেছেন। সুষ্ঠ প্রশাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ এহসানুল হক বলেন , মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, বহুদলীয় রাজনীতি ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা সুদৃঢ়করণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। জাতীয়তা ও স্বাধীনতার পক্ষে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। একজন সংগ্রামী নারী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব, সাহসিকতা, আপোষহীনতা ও দেশপ্রেম জাতির রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশের যেকোনো রাজনৈতিক সংকটে তিনি ছিলেন সকলের আশা আকঙ্খার মূর্ত প্রতীক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন,
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি, লড়াইয়ের জীবন্ত ইতিহাস, বাংলার মাটি ও মানুষের অপূর্ণ স্বপ্নের ধ্রুবতারা। সভাপতির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে যে উন্নয়ন দেখা যায় তার বেশিরভাগ অবদান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়কালের। দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের স্বার্থে তিনি কখনো কোন পরা শক্তির নিকট মাথা নত করেন নাই এই কারণে তিনি দল মত নির্বিশেষে সকল মানুষের নিকট শ্রদ্ধার ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন। আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. যুবাইর মোহাম্মদ এহসানুল হক।




