ডিজিটাল এফবিসিসিআই ঃ কাঠামোগত সংস্কারের পূর্ণাঙ্গ রোড ম্যাপ ----সাবিনা ইয়াসমিন সম্পাদক রোদসী

ডিজিটাল এফবিসিসিআই: কাঠামোগত সংস্কারের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ…
সময় বদলেছে—সংগঠনকেও বদলাতে হবে….
বাংলাদেশ দ্রুত ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। ব্যাংকিং, ট্যাক্স, আমদানি-রপ্তানি, এমনকি ক্ষুদ্র ব্যবসাও এখন প্রযুক্তিনির্ভর। কিন্তু প্রশ্ন হলো দেশের সর্বোচ্চ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই কি পুরোপুরি ডিজিটালভাবে প্রস্তুত? যদি সংগঠনই সময়ের সঙ্গে তাল না মেলায়, তবে সদস্যদের আধুনিক ব্যবসায়িক বাস্তবতায় নেতৃত্ব দেবে কীভাবে? এই বাস্তবতা থেকেই প্রয়োজন একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তর।
কেন ডিজিটাল সংস্কার জরুরি?
বর্তমান কাঠামোর কিছু সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট
• সদস্য তথ্য হালনাগাদ না থাকা
• যোগাযোগে বিলম্ব
• সিদ্ধান্ত গ্রহণে সময়ক্ষেপণ
• সেবা গ্রহণে সরাসরি উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা
• নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার প্রশ্ন
ডিজিটাল কাঠামো এই সমস্যাগুলোর কাঠামোগত সমাধান দিতে পারে। কিন্তু এই পরিবর্তনের প্রয়োজন হঠাৎ তৈরি হয়নি। বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো তাদের সেবা, নির্বাচন ব্যবস্থা, নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া ও সদস্য ব্যবস্থাপনাকে প্রযুক্তিনির্ভর করছে। কারণ তারা বুঝেছে—দ্রুত সিদ্ধান্ত, তথ্যের স্বচ্ছতা এবং সদস্য সম্পৃক্ততা ছাড়া আধুনিক অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়া যায় না। আমাদের প্রেক্ষাপটেও একই বাস্তবতা স্পষ্ট। সদস্য সংখ্যা বাড়ছে, সেবা জটিল হচ্ছে, নীতিগত ইস্যু দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু কাঠামো যদি পুরোনো পদ্ধতিতে আটকে থাকে, তাহলে সংগঠন তার পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে না।
এই উপলব্ধি থেকেই আমি দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল কাঠামোগত সংস্কারের কথা বলে আসছি। আনুষ্ঠানিক আলোচনায় এফবিসিসিআই এর মিটিংয়েও আমি বিষয়টি উত্থাপন করেছিলাম। কারণ আমি বিশ্বাস করি, পরিবর্তন নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো প্রতিশ্রুতি নয়; এটি সময়ের দাবি। নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো সময়ের আগেই প্রয়োজন চিনতে পারা এবং সংগঠনকে প্রস্তুত করা।
রোডম্যাপ: ৫টি মূল স্তম্ভ
১।কেন্দ্রীয় ডিজিটাল মেম্বার পোর্টাল
একটি আধুনিক অনলাইন পোর্টাল যেখানে—
▶️সদস্য নিবন্ধন ও নবায়ন
▶️ফি পরিশোধ
▶️সার্টিফিকেট ডাউনলোড
▶️ অভিযোগ দাখিল
▶️নীতিগত আপডেট
সবকিছু এক প্ল্যাটফর্মে থাকবে।
এটি শুধু সুবিধা নয়, এটি সময় ও ব্যয়ের সাশ্রয়।
২। ডেটা-ড্রিভেন নীতিনির্ধারণ
সংগঠন যদি সদস্যদের তথ্যভিত্তিক ডেটাবেজ তৈরি করে—
• কোন খাতে কী সমস্যা
• কোন জেলায় কী প্রতিবন্ধকতা
• কোন সেক্টরে ঋণ প্রবাহ কম
তাহলে সরকারের কাছে প্রস্তাব হবে শক্তিশালী ও প্রমাণভিত্তিক। ডেটা ছাড়া লবিং দুর্বল; ডেটা থাকলে অবস্থান শক্ত।
৩। ডিজিটাল অভিযোগ ও রেসপন্স সিস্টেম
একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে—
• অনলাইন অভিযোগ জমা
• ট্র্যাকিং নম্বর
• নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিক্রিয়া
• সমাধান প্রতিবেদন
এতে সদস্যদের আস্থা বাড়বে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।
৪। স্বচ্ছ ও আধুনিক নির্বাচন ব্যবস্থা
ডিজিটাল ভোটিং বা হাইব্রিড সিস্টেম চালু করলে….
• অংশগ্রহণ বাড়বে
• দূরবর্তী সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হবে
• স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে
নির্বাচন যদি স্বচ্ছ হয়, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়বে।
৫। ভার্চুয়াল ট্রেনিং ও গ্লোবাল কানেক্টিভিটি
• ওয়েবিনার
• আন্তর্জাতিক চেম্বারের সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং
• অনলাইন ট্রেড ব্রিফিং
• ডিজিটাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট।
বিশ্ব এখন সীমান্তহীন। সংগঠনকেও হতে হবে গ্লোবাল কানেক্টেড।
ডিজিটাল মানেই স্বচ্ছতা
ডিজিটাল কাঠামো মানে…..
▶️ তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত
▶️ আর্থিক রিপোর্ট সহজলভ্য
▶️ কার্যক্রম দৃশ্যমান
▶️ সিদ্ধান্তের ট্র্যাকিং
স্বচ্ছতা আস্থা তৈরি করে। আস্থা সংগঠনকে শক্তিশালী করে।
নারী নেতৃত্ব ও কাঠামোগত সংস্কার
আমি একজন নারী প্রার্থী—কিন্তু আমার লক্ষ্য লিঙ্গভিত্তিক নয়।
আমি বিশ্বাস করি, ডিজিটাল রূপান্তর কোনো প্রযুক্তিগত প্রকল্প নয়; এটি একটি সাংগঠনিক সংস্কার। এটি ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নয়; বরং তথ্যের বিকেন্দ্রীকরণ। এটি ব্যক্তিনির্ভর নয়; বরং সিস্টেমনির্ভর নেতৃত্বের প্রতিষ্ঠা।
একটি আধুনিক, প্রফেশনাল ও ডিজিটালভাবে শক্তিশালী এফবিসিসিআই-ই পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ব্যবসাকে নেতৃত্ব দিতে।
পরিশেষে দৃঢ় ভাবে বলি
সময় বদলেছে।
ব্যবসা বদলেছে।
অর্থনীতি বদলেছে।
এখন সংগঠন বদলানোর সময়। পরিবর্তন কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি দায়িত্ব, এবং আমি বিশ্বাস করি, আমরা চাইলে সেই পরিবর্তন এখনই শুরু করতে পারি।





